রাজধানীর পুরান ঢাকার গুলিস্তান সংলগ্ন বংশালের আলুবাজার এলাকায় একটি সেলুনে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় কারিগর ও গ্রাহকসহ অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরের তিনজন রয়েছেন। তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে ওই সেলুনে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে আলুবাজারের 'আরমান সেলুন'-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ এসি বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেলুনে থাকা কারিগর ও গ্রাহকেরা দগ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহত ১০ জনের মধ্যে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সাকিব (১৭) নামে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভর্তি থাকা আহতদের মধ্যে তিনজনের শ্বাসনালী দগ্ধ হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দীন জানান, গুরুতর আহত তিনজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আহত মো. ফারুকের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া রিংকুর ২১ শতাংশ, রাজুর ১৮ শতাংশ, পাপ্পুর ১৮ শতাংশ, শামসেদের ১৫ শতাংশ, আরমানের ১৫ শতাংশ, রফিকের ১২ শতাংশ, রনির ১০ শতাংশ এবং জসিমের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, রাতে সেলুনে কাজ চলাকালে বিকট শব্দে এসি বিস্ফোরিত হয়। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে থাকা কারিগর ও গ্রাহকদের অনেকেই বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
আহতদের মধ্যে সৈয়দপুরের তিনজন হলেন— আরমান, পাপ্পু ও শামসেদ। তাদের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকার আলুবাজার এলাকায় সেলুনের কারিগর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন নবনিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেন এবং এসিসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।