দেশজুড়ে মৌসুমি জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর পাঁচ থেকে দশ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, ডেঙ্গু ও টাইফয়েডের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও অনেকেই দুর্বলতা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বমি, ডায়রিয়া এবং প্লাটিলেট কমে যাওয়ার মতো উপসর্গে ভুগছেন। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা বলছেন, সব জ্বরকে শুধু ডেঙ্গু বা টাইফয়েড ভেবে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না।
হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোগীর চাপ বাড়ছে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বর থেকে নিউমোনিয়া, রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) কিংবা অন্যান্য জটিলতা তৈরি হচ্ছে। কয়েকজনকে আইসিইউতেও ভর্তি করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মানুষের চলাচল বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মশার বিস্তারের কারণে এ রোগ নতুন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের কয়েকটি বেসরকারি ব্লাডব্যাংকে রক্তদাতা পরীক্ষার সময় উপসর্গবিহীন ম্যালেরিয়া সংক্রমণও শনাক্ত হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, ভাইরাল জ্বর ছাড়াও ম্যালেরিয়া, স্ক্রাব টাইফাস, রিকেটশিয়াল সংক্রমণ, লেপ্টোস্পাইরোসিস, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস বা সেপসিস থেকেও দীর্ঘস্থায়ী জ্বর হতে পারে। রোগের শুরুর দিকে অনেক পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসা অস্বাভাবিক নয়। তাই উপসর্গের ভিত্তিতে রোগীকে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, জ্বর হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে, অথবা শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অচেতনতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করতে পারলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই দীর্ঘস্থায়ী জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।