নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার করেছে উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটি। মাদকের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সভা, সমাবেশ, প্রচার-র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এসব আয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার উপজেলার নেজামের চৌপথী এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে স্বপন নামে এক ব্যক্তিকে সতর্ক করতে যান স্থানীয় কয়েকজন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ওই ব্যক্তির দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটি জানিয়েছে, মাদকবিরোধী জনমত তৈরির লক্ষ্যে সৈয়দপুরের পাঁচটি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সভা-সেমিনারের পাশাপাশি বিক্ষোভ, র্যালি, প্রচারাভিযান ও উঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।
কমিটির সদস্যরা জানান, যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এ পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কাউকে হেয় করা বা ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সামাজিকভাবে সচেতন করে মাদক ব্যবসা থেকে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ হোসেন পাপ্পু ও যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী বলেন, মাদকবিরোধী লড়াইকে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। মাদক বিক্রি বন্ধে তাঁরা কঠোর অবস্থানের কথা জানান। একই সঙ্গে কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি বা সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেলে তা পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানোর জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
কমিটির নেতাদের ভাষ্য, মাদকের কারণে তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা মোকাবিলায় পরিবার ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তাঁরা আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ বাড়লে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে। তবে কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।