নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯২ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ৩৯৩ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে পৌরসভার কমিউনিটি সেন্টারের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেটটি ঘোষণা করেন।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে পৌরসভার রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ সমানভাবে ৩৬ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার ৭৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে কর থেকে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭৮ টাকা, রেট বা হার খাতে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৬৪ হাজার ৮৬ টাকা এবং পৌরসভার স্থাবর সম্পত্তি থেকে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া পৌর সম্পত্তি থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৪ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আয়ের হিসাব রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজস্ব ব্যয়ের ক্ষেত্রে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়। সম্মানী ভাতায় রাখা হয়েছে ৬১ লাখ টাকা। কনজারভেন্সি মঞ্জুরিতে ৭ কোটি ৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং সংস্থাপন খাতে ৭ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
শহরের স্বাস্থ্য, পয়ঃপ্রণালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে উন্নয়নমূলক কাজে ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেট উপস্থাপনের আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পৌরসভার নির্বাহী প্রধান কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পৌরসভার বাজার পরিদর্শক আকমল সরকার রাজু।
এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা রাজু, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ, পৌরসভার বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে বাজেট ঘোষণা ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়ে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে অসন্তোষও দেখা যায়। আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য রাখার সুযোগ না থাকা এবং সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করার ব্যবস্থা না রাখায় অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন কেউ কেউ। এ কারণে বাজেট ঘোষণার পাশাপাশি অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা উঠেছে।
পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৈয়দপুর পৌরসভার বাজেটের মোট আকার ছিল ১২২ কোটি ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪০ টাকা। সে হিসাবে নতুন অর্থবছরের বাজেট গতবারের তুলনায় ২৯ কোটি ৫৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪৭ টাকা কমেছে।