রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক আমীর আলীর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এমপিওভুক্তি নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুপুরে কার্যালয়টিতে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি নথি যাচাই করে দুটি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির এমপিওভুক্তিতে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের রংপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এ কে এম নুরে আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের হাবিবুর রহমান এবং নীলফামারীর মীরগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ফৌজিয়া আক্তারের এমপিও-সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। যাচাই শেষে দুদক কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে জাল বা ভুয়া নথি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এ কে এম নুরে আলম জানান, সাবেক পরিচালক আমীর আলীর সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দুদকের কাছে অভিযোগ আসার পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের এমপিও-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যালয়ের ব্যবহৃত সফটওয়্যার প্রায় দুই ঘণ্টা অচল থাকায় তা করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথির কাগজের কপি কার্যালয়ে না থাকায় সেগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় নথি যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও আধুনিক করার জন্য বর্তমান কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদ বলেন, সাবেক পরিচালকের অবসর গ্রহণের আগের সময়ের কয়েকটি সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সম্পর্কে দুদক তথ্য চেয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারীর মীরগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ এবং কাউনিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের এমপিও-সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে।
মীরগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের এমপিও বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তে ওই এমপিওর আইনগত ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন করে আবেদন করা হলেও সেটি অনুমোদনের সুযোগ নেই।
অধ্যাপক গোলাম মাজেদ আরও জানান, কাউনিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের এক ব্যক্তির এমপিও বাতিলের সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।সৌজন্যে ও তথ্য আজকের পত্রিকা