উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও একসময় ‘রাতের নিরাপদ শহর’ হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, মাদক ও জুয়ার মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু রাত নয়, দিনের ব্যস্ত সময়েও বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় দোকান ও বাসাবাড়িতে চুরি, অটোরিকশা-রিকশাভ্যান ও মোটরসাইকেল চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও বাসাবাড়ির সার্ভিস তার চুরিও নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও রেললাইনের আশপাশে জুয়ার আসর বসার পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগও রয়েছে।
এর মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে সৈয়দপুর প্লাজার দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তালা কেটে ‘বিদ্যুৎ জুয়েলার্স’ থেকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার রুপা এবং ‘সেল পয়েন্ট’ থেকে ৮৫টির বেশি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মোবাইলগুলোর আনুমানিক মূল্যও প্রায় ৪৫ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্দোলন করছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।
শুধু বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়, চুরির ঝুঁকিতে রয়েছেন নিম্নআয়ের যানবাহন চালকরাও। অটোবাইক, অটোরিকশা ও রিকশাভ্যান চুরি বা ছিনতাই হয়ে যাওয়ায় অনেক চালক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সম্প্রতি যাত্রীবেশে এক কিশোরের ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। পরে একটি এনজিও ওই কিশোরকে নতুন ভ্যান কিনে দেয়।
অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ নিয়মিত গ্রেপ্তার ও উদ্ধার অভিযান চালালেও অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্রিকেট, ক্যারাম, লুডু ও তাসকে কেন্দ্র করে জুয়ার আসরও চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নীলফামারীর পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খান জানান, সৈয়দপুর প্লাজার চুরির ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সৈয়দপুর শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে, মার্কেটগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের টহলও জোরদার করা হচ্ছে। মাদক, জুয়া, চুরি ও ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে : দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকা থেকে।