নীলফামারীর সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে অফিসটিতে গিয়ে দেখা যায়, জমি রেজিস্ট্রেশনের কাজ চলার সময় রেজিস্ট্রারের মাথার ওপরের অংশ থেকে হঠাৎ পলেস্তারা ভেঙে নিচে পড়ে। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হলেও এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। ফলে ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে পলেস্তারা পড়ে কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ঝুঁকির কারণে নির্ধারিত এজলাসে বসে কাজ না করে পাশের একটি কক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মাসুম।
সহকারী রেজিস্ট্রার আব্দুর বউফ জানান, অফিসে প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বৃষ্টির পানি ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। মূল্যবান কাগজপত্র রক্ষায় অনেক ফাইল পলিথিনে মুড়িয়ে রাখতে হচ্ছে। মাত্র চারটি কক্ষের মধ্যে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। একই ভবনে সহকারী সেটেলমেন্ট, পরিসংখ্যান ও সমবায় কার্যালয়ের কার্যক্রমও চলছে। সব মিলিয়ে নকলনবিশসহ প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে কাজ করেন।
নকলনবিশ আব্দুল আউয়াল বলেন, জায়গার সংকটে তাদের অনেককে বারান্দায় বসেই কাজ করতে হয়। বিভিন্ন সময়ে ছাদ থেকে পলেস্তারা পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এরপরও ভবন সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত টয়লেট বা ওয়াশরুম না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জরুরি প্রয়োজনে অফিসের বাইরে যেতে হয়। এতে স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অফিস সূত্র জানায়, প্রতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার এখানে মূল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই দুই দিন জমি ও দলিল-সংক্রান্ত কাজে বিপুলসংখ্যক মানুষ অফিসে আসেন। কোনো কোনো দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছে যায়। সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও বিভিন্ন সেবা নিতে মানুষের উপস্থিতি থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরকার প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। বিপুল রাজস্ব আদায়ের এই প্রতিষ্ঠানটির ভবন দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি। নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিলেও নিজস্ব জমি না থাকায় নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ভবনটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় এর কোনো অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আতঙ্ক নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দ্রুত ভবনটির কারিগরি সক্ষমতা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবনের ব্যবস্থা করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
রিপোর্ট : সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম খোকন
আপলোডেড এডমিন এ/এম/রিফান/