আজ পবিত্র আশুরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ববহ এবং একই সঙ্গে গভীর শোকের দিন।
৬১ হিজরির ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে ১০ মুহররম এই আশুরার দিনে বিশ্বমানব সভ্যতার ইতিহাসে এক নিদারুণ মর্মান্তিক ও বিয়োগান্ত ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলো ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার স্মারক হলেও কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা পবিত্র আশুরাকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.), তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শাহাদতবরণ করেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ, মানবিক মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নীলফামারীর সৈয়দপুরে শোক, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন ইমামবাড়ায় নিয়াজ-ফাতেহা, দোয়া-মোনাজাত ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে বের হয় ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল, যেখানে অংশ নেন হাজার হাজার শোকাহত মানুষ। বাংলাদেশে এ বছর পবিত্র আশুরা ২৬ জুন পালিত হচ্ছে।
মিছিলটি শহরের গোলাহাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রতীকী কারবালা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
আশুরা উপলক্ষে শহরের পাড়া মহল্লার ইমামবাড়াগুলোতে বিভিন্ন সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ। আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো। ইমাম হোসেন (রা.)-এর মাজারের আদলে নির্মিত হয়েছে তাজিয়া। কোথাও কোথাও লাঠিখেলা, তলোয়ার ও আগুনের কসরত প্রদর্শন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। হাতিখানায় অবস্থিত কারবালা প্রাঙ্গনে বসেবে মেলা। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
সৈয়দপুরের অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে পবিত্র আশুরা পালিত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, শোক, ত্যাগ ও মানবতার চেতনা ধারণ করেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
এ/এম/রিফান/