নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ইটবোঝাই ট্রলির সঙ্গে ট্রেনের ইঞ্জিনের সংঘর্ষে ট্রলিচালক নিহত এবং তার সহকারী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় ট্রলিটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ট্রেনের ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিছু দূরে গিয়ে থেমে যায়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে সৈয়দপুর-পার্বতীপুর রেলপথের বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মশে হাজিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আমিনুল ইসলাম (৪৮) নীলফামারী সদর উপজেলার দীঘলডাঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা। আহত সাজু রহমান (৩৫) সৈয়দপুর পৌরসভার কয়া গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা। তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটবোঝাই ট্রলিটি রেললাইন অতিক্রমের সময় সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রলির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
আহত সহকারী সাজু রহমান জানান, রেললাইনের দুই পাশে ঘরবাড়ি থাকায় দূর থেকে ট্রেন দেখা যায়নি। এছাড়া ট্রেন আসার আগে কোনো হুইসেল বা সতর্ক সংকেতও তিনি শুনতে পাননি। সামনে একটি মোটরসাইকেল রেললাইন পার হওয়ার পর তারাও ট্রলি নিয়ে এগিয়ে গেলে হঠাৎ ট্রেন সামনে চলে আসে। তখন তিনি লাফিয়ে পড়ে প্রাণে রক্ষা পেলেও মাথায় আঘাত পান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রলির বিভিন্ন অংশ ছিটকে পড়ে এবং কিছু অংশ ট্রেনের সঙ্গে আটকে যায়। ফলে ইঞ্জিনটি কয়েকশ গজ সামনে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে সড়কের ওপর ট্রলির বডি পড়ে থাকায় কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই রেলক্রসিংয়ে কোনো গেট বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিদ্যমান। তারা দ্রুত গেট স্থাপন এবং রেললাইনের পাশে দৃষ্টিবাধাকারী অবৈধ স্থাপনা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের পর অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।