নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন মুর্তজা ইনস্টিটিউট। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নাটক, সাহিত্যচর্চা, সেমিনার, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি আজও শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ব্রিটিশ শাসনামলে সৈয়দপুরে রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠার পর ইউরোপীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর বিনোদনের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয় ‘দ্য ইউরোপিয়ান ক্লাব’। ১৮৭০ সালের পর গড়ে ওঠা এই ভবনটি সময়ের বিবর্তনে বিভিন্ন নামে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে ‘মুর্তজা ইনস্টিটিউট’ নামেই সুপরিচিত।
লাল ইটের নান্দনিক স্থাপত্যে নির্মিত ভবনটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে শহরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এখনো তাদের অনুষ্ঠান ও মঞ্চায়নের জন্য এ মিলনায়তনের ওপর নির্ভরশীল।
তবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো দিন দিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। একসময়কার সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের অনেক মূল্যবান বই নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে গেছে সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও শিল্পকর্ম।
বর্তমানে গ্রন্থাগারটিতে প্রায় পাঁচ হাজার বই সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, ধর্মীয় গ্রন্থ, ভ্রমণকাহিনী, কবিতাসহ বাংলা, ইংরেজি ও উর্দু ভাষার বিপুলসংখ্যক বই রয়েছে। একসময় এই পাঠাগারটি ছিল বিরল ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালা।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৩০ সালের পর আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার বি.আর. সিংয়ের নামে শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বি.আর. সিং ইনস্টিটিউট’, যা বর্তমানে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সময়ে ইউরোপিয়ান ক্লাবের নামও পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হয়ে বিআরসি ক্লাব, কালপেপার ইনস্টিটিউট এবং সর্বশেষ মুর্তজা ইনস্টিটিউট নামে পরিচিতি লাভ করে।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সৈয়দপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক অপু বিশ্বাস বলেন, ‘সৈয়দপুরে বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য বিকল্প কোনো মিলনায়তন নেই। তাই ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।’
এ/এম/রিফান/