নিজস্ব প্রতিবেদক
নীলফামারীর সৈয়দপুরে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা। সংঘবদ্ধ চোরচক্রের লাগাতার তৎপরতায় একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের আলোকসজ্জা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দুর্ভোগও বাড়ছে। বারবার চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
শহরের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মোম সোহেল জানান, গত এক সপ্তাহে দুই দফায় তাদের বাড়ির মিটারের সংযোগ তার এবং এসির তার চুরি হয়েছে। প্রতিবার নতুন করে তার কিনে সংযোগ দিতে হচ্ছে, যা বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। তিনি বলেন, “একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ সমস্যা আরও বাড়বে।”
চুরির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে। শহীদ ক্যাপ্টেন মীঢ়ধা শামসুল হুদা সড়কের বিভিন্ন স্থানে স্ট্রিট লাইটের তার চুরি হওয়ায় রাতের বেলায় সড়কটি প্রায় অন্ধকারে ঢেকে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের চালকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুজন ইসলাম বলেন, “স্ট্রিট লাইট সচল থাকলেও কিছুদিন পরপর তার চুরি হয়ে যাচ্ছে। ফলে পুরো এলাকা অন্ধকারে থাকে এবং রাতে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ১৯ জুন সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসকের ফেসবুক পেজে একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দর সড়কের খাটিয়া মহল্লা থেকে নিচু কলোনি মোড় পর্যন্ত স্ট্রিট লাইটের বৈদ্যুতিক তার বারবার চুরি হওয়ায় আলোকসজ্জা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার কপার তার চুরি হয়েছে। নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, “কপার তারের দাম অনেক বেশি। পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় দ্রুত প্রতিস্থাপন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এভাবে চুরি চলতে থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।”
তিনি জানান, তার চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রমের সার্ভিস লাইনের তার চুরি হয়েছে। এর ফলে সেখানে বসবাসরত প্রবীণরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এছাড়া ওয়াপদা মোড় এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠানের সংযোগ লাইনের তারও চুরি হয়েছে। তিনি বলেন, “বারবার এমন ঘটনা ঘটলে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যাবে।”
সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন বলেন, “শুধু বৈদ্যুতিক তার নয়, মিটার, পানির মোটরসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনাও বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।”
সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। চুরি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি নতুন আলোকসজ্জা স্থাপনের কাজও চলছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, চুরি প্রতিরোধে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন সন্দেহভাজন তার চোরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।