নিজস্ব প্রতিবেদক, সৈয়দপুর: নীলফামারীর সৈয়দপুরে চলমান ‘গ্রামীণ ও কুটির শিল্প মেলা’কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অবৈধ জুয়া ও লটারির অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছে মেলার আয়োজক কমিটি। মেলা বন্ধের উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেলার পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এসএম রাশেদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক কুটির শিল্পীদের উৎপাদিত পণ্যের প্রসার এবং স্থানীয় মানুষের সুস্থ বিনোদনের লক্ষ্যেই প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নানা পণ্যের স্টল রয়েছে এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলা উপভোগ করছেন।
তিনি বলেন, "মেলা প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের অবৈধ জুয়া কিংবা অসামাজিক কার্যকলাপের স্থান নেই। বিনোদনমূলক কুপন বা লটারির যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক এবং দর্শকদের আগ্রহেই পরিচালিত হচ্ছে। কাউকে এখানে বাধ্য করা হচ্ছে না।"
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মেলার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল প্রশাসনের কাছে ভুল তথ্য দিয়ে মেলা বন্ধের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা কুটির শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
আয়োজক কমিটি জানায়, মেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচারকারীদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সৈয়দপুরের সচেতন নাগরিক ও সংবাদকর্মীদের প্রতি কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে মেলার প্রকৃত উদ্দেশ্য—লোকজ সংস্কৃতি ও কুটির শিল্পের বিকাশে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান আয়োজকরা।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং মেলার পরিচালনা কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।