পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার লক্ষ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করলেও অসচেতনতার কারণে সেই উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। বিশেষ করে শহরের হাতিখানা রোডের ফলের আড়তে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পচা ও নষ্ট ফল ডাস্টবিনে না ফেলে রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পথচারী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যানবাহনের চালকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাতিখানা রোডে পৌরসভার নির্মিত বড় ডাস্টবিনটি ব্যবহার না করে কিছু ব্যবসায়ী দোকানের বর্জ্য সরাসরি সড়কের পাশে বা রাস্তার ওপর ফেলে রাখছেন। একই চিত্র শহরের আরও কয়েকটি ফলের আড়ত ও খুচরা বাজার এলাকায়ও দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। সেই সঙ্গে মাছি-মশার উপদ্রব বেড়ে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পথচারী শুভ হোসেন বলেন, ডাস্টবিন কাছে থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যবসায়ী সেটি ব্যবহার করেন না। ফলে রাস্তা নোংরা হচ্ছে, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং গরমের দিনে দুর্গন্ধের কারণে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ফল ব্যবসায়ী বলেন, সবাই এমন কাজ করেন না। অল্প কয়েকজনের দায়িত্বহীন আচরণের কারণে পুরো বাজারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সৈয়দপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন আলী সরকার বলেন, শুধু ডাস্টবিন স্থাপন করলেই পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হয় না। সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়কে বর্জ্য ফেলছেন, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সড়কে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিয়ম অমান্যকারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশকর্মী দেলওয়ার হোসেন বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যা অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব।