নিজস্ব প্রতিবেদক : উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, ভাঙাচোরা পরিবেশ এবং অব্যবস্থাপনার কারণে টার্মিনালটি এখন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের কাছে অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে অধিকাংশ বাস নির্ধারিত টার্মিনাল ব্যবহার না করে মহাসড়কের পাশেই যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশক আগে এই বাসটার্মিনাল নির্মাণ করা হয় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে। সময়ের ব্যবধানে এর পরিচালনার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের হাতে এলেও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় অবকাঠামোর অবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ। বাস চলাচলের জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও আগাছা, কোথাও আবার বালু ও পাথরের স্তূপ পড়ে থাকায় পুরো এলাকা তার মূল উদ্দেশ্য হারিয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটি অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচরণস্থল হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই টার্মিনালকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে শতাধিক বাস চলাচল করে। কিন্তু টার্মিনালের অনুপযোগী পরিবেশের কারণে অনেক পরিবহন ভেতরে প্রবেশ না করে সরাসরি মহাসড়ক থেকেই যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে।
রংপুরগামী যাত্রী আবু হোসেন বলেন, টার্মিনালের বর্তমান অবস্থায় বাস ঢোকানোই কঠিন। তাই যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়েই সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে গাড়িতে উঠতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল আলী, সিহাব হোসেন ও জামিল মন্ডল অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর সংস্কারের ঘোষণা এলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সৈয়দপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজ আলম বলেন, মহাসড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী পরিবহন নিরাপদ নয়। টার্মিনালটি কার্যকরভাবে চালু করা গেলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, গুরুত্বপূর্ণ এই বাসটার্মিনালকে দ্রুত সংস্কার করে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে, যাতে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাপনাও শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরে আসে।