দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গিয়েছিল সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়ামের চারপাশ। অবশেষে সেই জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে স্বস্তি ফিরেছে মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করা খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে। তবে তাদের অভিমত, কেবল দৃশ্যমান আগাছা কেটে ফেললেই সমস্যার সমাধান হবে না; স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিতভাবে শেকড় উপড়ে ফেলা এবং নিয়মিত পরিচর্যা।
সৈয়দপুরের ক্রীড়াচর্চার অন্যতম কেন্দ্র এই উপজেলা স্টেডিয়াম। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলায় কয়েক শতাধিক শিশু, কিশোর ও তরুণ অনুশীলন করেন। বিভিন্ন ক্রীড়া একাডেমি, ক্লাব এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মাঠটি সারাবছরই মুখর থাকে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাঠের চারপাশের জঙ্গল খেলোয়াড়দের জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। অনুশীলনের সময় বল ঝোপঝাড়ে চলে গেলে তা আনতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। পাশাপাশি বিষাক্ত পোকামাকড়ের ভয়ে অনেকেই আতঙ্ক নিয়ে অনুশীলন করতেন। বিশেষ করে শিশু খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন অভিভাবকরাও।
খেলোয়াড়দের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমে সমস্যাটি উঠে আসার পর প্রশাসন মাঠ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়।
যদিও চলমান কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা, তবুও তাদের আশঙ্কা—শুধু আগাছার ওপরের অংশ কেটে ফেললে অল্প সময়ের মধ্যেই আগের পরিস্থিতি ফিরে আসবে। তাই শেকড়সহ আগাছা অপসারণ, নিয়মিত ঘাস কাটা, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়াম শুধু একটি খেলার মাঠ নয়, এ অঞ্চলের সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদ তৈরির অন্যতম ভিত্তি। উপযুক্ত পরিবেশ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখান থেকে ভবিষ্যতেও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, স্টেডিয়ামকে খেলোয়াড়দের অনুশীলন এবং বিভিন্ন ক্লাবের টুর্নামেন্ট আয়োজনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে জঙ্গল অপসারণের কাজ শুরু হওয়ায় খেলোয়াড়, কোচ, অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, সাময়িক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যেই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না রেখে স্টেডিয়ামটিকে দীর্ঘমেয়াদে আধুনিক ও নিরাপদ ক্রীড়া ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলা হবে।