
ইউটিউব দেখে শেখা, এখন ইউরোপ-আমেরিকায় যাচ্ছে সৈয়দপুরের বাঁশশিল্প
বাঁশের হস্তশিল্পে স্বপ্নপূরণ, কর্মসংস্থান ২০ জনের
By Admin Editor
July 16, 2026
125 Views
2 min read
একসময় অন্যের বাড়িতে সিলিং ও সেলাইয়ের কাজ করেই চলত নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর সোনখুলি এলাকার হাজীমুল ইসলামের সংসার। অভাব-অনটনের সেই দিন পেছনে ফেলে এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা। তার হাতে তৈরি পরিবেশবান্ধব বাঁশের হস্তশিল্প দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। একই সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন স্থানীয় প্রায় ২০ জন নারী-পুরুষ।
বাঁশনির্ভর এই কুটির শিল্প গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছেও বাড়ছে সৈয়দপুরের এই প্রতিষ্ঠানের তৈরি হস্তশিল্পের কদর।
কয়েক বছর আগে অল্প পুঁজি নিয়ে বাঁশের মগ তৈরির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন হাজীমুল ইসলাম। ইউটিউব দেখে নিজেই পণ্য তৈরির কৌশল আয়ত্ত করেন। প্রথমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলেও ধীরে ধীরে উন্নত মান, আকর্ষণীয় নকশা এবং অনলাইন প্রচারের কারণে তার পণ্যের পরিচিতি বাড়ে। বর্তমানে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে যাচ্ছে তার তৈরি নানা পণ্য।
প্রতিষ্ঠানটিতে বাঁশের ঝুড়ি, লন্ড্রি বাস্কেট, ফলের ঝুড়ি, ট্রে, ফুলের টব, ল্যাম্পশেড, হোম ডেকোর সামগ্রী ও বিভিন্ন শোপিস তৈরি করা হয়। দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি এসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
হাজীমুল ইসলাম বলেন, শুরুতে পুঁজি ও বাজার—দুই সংকটই ছিল। তবে মানের সঙ্গে কোনো আপস করিনি। এখন দেশ-বিদেশ থেকে অর্ডার আসছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সহায়তা পেলে উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আগে অন্যের বাড়িতে সিলিংয়ের কাজ করতাম। পরে ইউটিউব দেখে বাঁশের মগ তৈরি শুরু করি। সেই ছোট উদ্যোগই আজ বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পণ্য সরবরাহ করছি। বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। আমার সঙ্গে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সুদমুক্ত ঋণ পেলে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
কারখানার কর্মী রোজিনা বেগম বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে কাজ পাওয়ার পর পরিবারের আর্থিক সংকট অনেকটাই কমেছে। নিজের আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচও চালাতে পারছেন।
কর্মী আব্দুল করিম বলেন, প্রতিটি পণ্য নিখুঁতভাবে তৈরি করতে হয়। নিজেদের তৈরি পণ্য বিদেশে যাচ্ছে—এটি তাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের।
শ্রমিক ববিতা রানি রায় বলেন, এখানকার আয়েই এখন পরিবারের খরচ চলে। পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়ও বহন করা সম্ভব হচ্ছে।
নীলফামারী বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক নূরেল হক বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। উদ্যোক্তাকে ইতিমধ্যে বিনাসুদে এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
রিপোর্ট/লিয়ন/আপলোডেড/এ/এম/রিফান/
More from Saidpur News
ঐতিহ্য সৈয়দপুরইউটিউব দেখে শেখা, এখন ইউরোপ-আমেরিকায় যাচ্ছে সৈয়দপুরের বাঁশশিল্প
বাঁশের হস্তশিল্পে স্বপ্নপূরণ, কর্মসংস্থান ২০ জনের
Jul 16• 2 min read
1250
ঐতিহ্য সৈয়দপুরকুটিরশিল্পে নতুন সম্ভাবনা, আগরবাতি উৎপাদনে এগিয়ে সৈয়দপুর
কুটিরশিল্পে সম্ভাবনার নাম—সৈয়দপুরের আগরবাতি
Jul 2• 3 min read
441
ঐতিহ্য সৈয়দপুর১৫৬ বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে সৈয়দপুরের মুর্তজা ইনস্টিটিউট
১৮৭০ সালের ইউরোপিয়ান ক্লাব থেকে আজকের মুর্তজা ইনস্টিটিউট
Jun 24• 2 min read
611
