
সৈয়দপুরে ৪০ বছর ধরে অচল রেলওয়ের পানি ব্যবস্থা, নষ্ট হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকার সম্পদ
পাম্প বন্ধ, ট্যাংকে মরিচা—সৈয়দপুরে চার দশক ধরে অচল রেলওয়ের পানি সরবরাহ
By Admin Editor
July 21, 2026
2 Views
3 min read
নিজস্ব প্রতিবেদক : নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টারে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য নির্মিত গভীর নলকূপ, ওভারহেড পানির ট্যাংক ও পাইপলাইন প্রায় চার দশক ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে একদিকে যেমন কোয়ার্টারবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের মূল্যবান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এই পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ট্যাংক, মোটর, পাইপলাইন ও অন্যান্য সরঞ্জামের বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। অথচ এসব সম্পদ সংরক্ষণ কিংবা পুনরায় চালুর বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ২ হাজার ৬৭০টি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ১৫০টি বাংলো ও ৭০০টি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কোয়ার্টারে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে শহরের ইসলামবাগ, শেরু হোটেল মোড়, চিনি মসজিদ এলাকা, গোলাহাট, পুরাতন বাবুপাড়া, সাহেবপাড়া ও মিস্ত্রিপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে আটটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গভীর নলকূপ এবং ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার আটটি ওভারহেড পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছিল। রেলওয়ের সেতু, বিদ্যুৎ ও কার্য প্রকৌশল বিভাগ যৌথভাবে এই প্রকল্প পরিচালনা করলেও প্রায় ৪০ বছর আগে পুরো ব্যবস্থাই অচল হয়ে যায়।
বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, স্টেশন ও বিভিন্ন দপ্তরে অনুমোদিত ৩ হাজার ৮৩২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র প্রায় ৮৭০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের অধিকাংশই পরিবার নিয়ে রেল কোয়ার্টারে বসবাস করলেও সেখানে কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহ না থাকায় সবাইকে নিজ উদ্যোগে টিউবওয়েল বা বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পহাউস এখন পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ। ভবনের চারপাশ আগাছায় ভরে গেছে। বিশাল আকৃতির লোহার পানির ট্যাংক ও ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনে মরিচা ধরে ক্ষয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মোটর, ভালভসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু পাম্পহাউস ও সংলগ্ন রেলভূমিও অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে।
রেল কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর পানি না থাকায় প্রতিদিন রান্না, গোসল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ইসলামবাগ এলাকার বাসিন্দা রেলকর্মচারী আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত খরচে টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন। কিন্তু এখনো বেতন থেকে পানি বিল ও বাসাভাড়া কেটে রাখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোয়ার্টারগুলোতে সুপেয় পানির কোনো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা নেই। অথচ বাসিন্দাদের জন্য এটি একটি মৌলিক সেবা। বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বছরের পর বছর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। অবৈধ দখলমুক্ত করে দ্রুত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় চালু এবং রেলওয়ের সম্পদ সংরক্ষণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ জরুরি।
এ বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) চন্দন কুমার সরকার বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাম্পগুলো চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
More from Saidpur News
সৈয়দপুরবন্ধ গ্রামীণ কুটির শিল্প মেলা ও লটারি, সৈয়দপুরে শোকরানা দোয়া মাহফিল
সৈয়দপুর পাঁচ মাথা মোড়ে লটারি বন্ধের পর কৃতজ্ঞতায় শোকরানা মাহফিল।
Jul 30• 1 min read
40
সৈয়দপুরহবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে সৈয়দপুরে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
হবিগঞ্জে হামলা পাঁচ মাথা মোড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন সৈয়দপুর এনসিপির নেতাকর্মীরা।
Jul 29• 1 min read
210
সৈয়দপুরসংস্কারের অপেক্ষায় সৈয়দপুর বাসটার্মিনাল, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
কাদা-গর্তে নাকাল সৈয়দপুর বাসটার্মিনাল
Jul 29• 2 min read
60
