তারিখ লোড হচ্ছে...
BREAKING NEWS
Saidpur News: Providing accurate journalism since 1998.
রংপুরে মানুষ চাহিদার চেয়ে বেশি খায় মাংস, কম খাওয়া হচ্ছে শাক-সবজি
রংপুর

রংপুরে মানুষ চাহিদার চেয়ে বেশি খায় মাংস, কম খাওয়া হচ্ছে শাক-সবজি

উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও সুষম খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন রংপুর অঞ্চলের মানুষ ••

By Admin Editor
June 20, 2026
41 Views
3 min read
খাদ্য উৎপাদনে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল রংপুর বিভাগ। তবে উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও সুষম খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে শাক-সবজি, দুধ ও শস্যজাতীয় খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও মাংস খাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস। এ অঞ্চলে আলু, বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, মাছ ও প্রাণিজ খাদ্যের উৎপাদন ব্যাপক হলেও দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির ভারসাম্য এখনও নিশ্চিত হয়নি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক গড়ে ১২০ গ্রাম মাংস গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হলেও রংপুরের মানুষ গড়ে প্রায় ১৮০ গ্রাম মাংস খাচ্ছেন। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি মাংস গ্রহণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে দুধের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রতিদিন একজন মানুষের ২৫০ গ্রাম দুধ পান করা প্রয়োজন হলেও এ অঞ্চলে গড় গ্রহণের পরিমাণ ১৮০ গ্রামের মতো। যদিও কয়েক বছর আগের তুলনায় দুধ গ্রহণ বেড়েছে, তবুও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
প্রধান খাদ্য ভাতের ক্ষেত্রেও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন মানুষের দৈনিক ৪০০ গ্রাম চাল বা ভাত খাওয়া প্রয়োজন। সেখানে রংপুর অঞ্চলে গড় গ্রহণের পরিমাণ ৩৮০ গ্রাম। নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে এই হার আরও কম, অনেক ক্ষেত্রে তা ২৫০ গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
শাক-সবজি গ্রহণেও একই চিত্র দেখা যায়। প্রতিদিন ৩০০ গ্রাম শাক-সবজি খাওয়ার সুপারিশ থাকলেও বাস্তবে মানুষ গড়ে প্রায় ২৫০ গ্রাম গ্রহণ করছে। গমজাত খাদ্যের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনের তুলনায় গ্রহণ অনেক কম। যেখানে দৈনিক ৫০ গ্রাম গমজাত খাদ্য প্রয়োজন, সেখানে খাওয়া হচ্ছে মাত্র ২২ গ্রাম।
তবে মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে। দৈনিক ৬০ গ্রাম মাছের চাহিদার বিপরীতে গড়ে প্রায় ৬৭ গ্রাম মাছ গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক বছরে রংপুরে গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কোরবানির মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও প্রতিবছর কয়েক লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকছে। একইভাবে হাঁস-মুরগির উৎপাদনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তথ্যমতে, রংপুর বিভাগের মোট মাংসের জোগানের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে গরু থেকে, ৩৫ শতাংশ হাঁস-মুরগি থেকে এবং বাকি ২৫ শতাংশ আসে ছাগল, খাসি ও ভেড়া থেকে।
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাংস গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে দুধ উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুধের ঘাটতি আরও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেই পুষ্টি নিশ্চিত হয় না; সঠিক খাদ্যাভ্যাসও জরুরি। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও খাদ্য নির্বাচনের অভ্যাসের কারণে অনেকেই নিয়মিত পর্যাপ্ত শাক-সবজি ও ফলমূল গ্রহণ করেন না।
পুষ্টিবিদরা জানান, পালং, লালশাক, কলমিশাক, কচুশাক, ডাটাশাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক এবং টমেটো, গাজর, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, করলা, বেগুন ও পটলের মতো সবজিতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এসব খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান)-এর পীরগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ছাদেকুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় কিছু খাদ্য উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ না করায় পুষ্টিজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য মানুষের মধ্যে সুষম খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
তথ্য সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।
Share this story:

More from Saidpur News

রংপুর বিভাগে বৃষ্টির সতর্কতা, কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণরংপুর
তারাগঞ্জের ভীমপুরে ক্যানেলপাড়ের পাটক্ষেতে মিলল ৯বছরের মাদ্রাসাছাত্রীর লা*শরংপুর

তারাগঞ্জের ভীমপুরে ক্যানেলপাড়ের পাটক্ষেতে মিলল ৯বছরের মাদ্রাসাছাত্রীর লা*শ

রংপুরের তারাগঞ্জে নিখোঁজের পরদিন সানজিদার (৯) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশের পাটখেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

Jun 20 1 min read
840